ঈশ্বর সকল অন্তরে : যুগপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ
“ঈশ্বর সকলের ভিতরেই আছেন,কিন্তু সকলে তাঁর ভিতরে নাই। এজন্যই লোকের এতো দুঃখ।” যুগপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণদেবের এই বাণী আমাদের নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। এই মানবই বলে গিয়েছেন,”ভগবানের ভক্তি বা প্রেম ছাড়া,কোনো কাজকে সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়।”একজন আদর্শ মানুষ হয়ে উঠে জগৎকে দেখতে চেষ্টা করতে হয়। মানবের মননের দীপ্তি রয়েছে। সাংসারিক জীবন সব সময়ই সুখ-দুঃখ মেশানো। শোক-তাপ-ভোগ এসব থাকবেই। আমরা সংসার-দুঃখ মুক্ত হতে চেষ্টা করে থাকি। মনুষ্য জীবনে শান্তি ও নির্মল আনন্দ লাভের সন্ধান করে থাকি। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা যেমন বলেছেন, “স্নানে শরীর শুদ্ধ হয়, দান করলে অর্থ ও সম্পদ আসে,যোগে স্বাস্থ্য রক্ষা হয়,ধ্যানে আত্মা এবং ক্ষমায় সম্পর্ক তৈরি হয়। পরোপকার করলে জীবন শুদ্ধ হয়।” শাস্ত্র পণ্ডিতেরা আরও বলছেন,”কর্মই আত্মচেতনাকে বাড়াতে সহায়তা করে। নিঃস্বার্থ কর্ম করলেই মন মার্জিত হয়ে চিত্ত শুদ্ধ হয়ে যায়। হৃদয়ে আনন্দলাভ হয়। অন্তর মহত্তর হয়ে ওঠে। জ্ঞানী-গুণী মানুষের চলার পথ সঠিক হলে তাঁরা আদর্শ হয়ে উঠতে পারেন। জ্ঞানের আলোকে একজন মানুষ মহান হয়ে ওঠেন। শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর উপদেশে বলে গিয়েছেন,” ফল বড় হলে ফুল আপনি উড়ে যায়। দেবত্বের প্রভাব বাড়িলে নরত্ব থাকে না। ” জীবনের মানেটা সাধক শ্রীরামকৃষ্ণ অন্যভাবে ভেবেছেন। তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে,”জীবনের বিশ্লেষণ করা ছেড়ে দাও,এটা জীবনকে আরও জটিল করে দেবে।” তিনি স্পষ্ট করে বলতে চেয়েছেন,”ভগবান সর্বত্র আছেন এবং প্রত্যেক কণায় আছেন। কিন্তু তিনি একটি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অধিক থাকেন। তাই এইজন্যই ভগবানরুপী মানুষের সেবা করাই ভগবানের আসল সেবা।” আজকের দিনে এই পূজ্য মানুষটির প্রতি সশ্রদ্ধ প্রণাম। (ছবি:সংগৃহীত)

